নিজস্ব প্রতিবেদক :
আমি বিএনপির নেতা, আমার দল ক্ষমতায়, আমি দলের সভাপতি মানে সর্বোচ্চ নেতা- ‘ধর ধর’ বলেই হামলার নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার দারোরা ইউনিয়নের পালাসুতা গ্রামের বাসিন্দা ও দারোরা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকের বিরুদ্ধে। ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এই ঘটনায় অন্তত দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১ মে) সন্ধ্যা ৬টার দিকে পালাসুতা গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় যুবকদের উদ্যোগে বিবাহিত ও অবিবাহিতদের মধ্যে একটি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়। খেলার নির্ধারিত সময়ের সঙ্গে অতিরিক্ত এক মিনিট যোগ করা নিয়ে খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে খেলা শেষে সবাই নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেলেও বিরোধের জের ধরে সন্ধ্যায় পালাসুতা গ্রামে পুনরায় সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় প্রতিপক্ষের হামলায় জামাল হোসেন (৩৯) ও তার ছোট ভাই কামাল হোসেন (৩২) গুরুতর আহত হন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহতদের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এ ঘটনায় বিলকিস বেগম নামে এক নারী মুরাদনগর থানায় চারজনকে অভিযুক্ত করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন একই গ্রামের বাসিন্দা মো. খুরশিদের ছেলে মো. জুয়েল (২০), মো. সোহেল (২২), মো. শফিক (৪২) ও মো. রুবেল (৩২)। লিখিত অভিযোগে অভিযোগকারী বিলকিস বেগম উল্লেখ করেন, ৩ ও ৪ নম্বর বিবাদী শফিক ও রুবেল প্রথমে তার স্বামী জামাল হোসেনের নাকে, মুখে ও মাথায় এলোপাথাড়ি মারধর করেন।
পরে ১ নম্বর বিবাদী জুয়েলের হাতে থাকা ধারালো দা দিয়ে জামালের মাথায় কোপ মারা হয়, যার ফলে তিনি গুরুতর জখম হন। স্বামীকে বাঁচাতে দেবর কামাল এগিয়ে এলে ২ নম্বর বিবাদী সোহেল গ্যাস পাইপ দিয়ে তার মাথার বাম দিকে আঘাত করে, ফলে তার মাথাও ফেটে যায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দা, গ্যাসের পাইপ ও লোহার রড ব্যবহার করে অতর্কিতভাবে হামলা চালায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ ও ঘটনার সত্যতা জানতে অভিযুক্ত শফিকের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে তার স্ত্রী এবং পরে তিনি নিজেই কথা বলেন। শফিক দাবি করেন, তার স্ত্রী রোজিনা দারোরা ইউনিয়নের চারটি ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউপি সদস্য এবং তিনি নিজে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল দারোরা ইউনিয়নের সভাপতি ও সেক্রেটারি। (উল্লেখ্য, একই ব্যক্তি একই সংগঠনের সভাপতি ও সেক্রেটারি হতে পারেন না—তবে তার কথিত বক্তব্য হুবহু উদ্ধৃত করা হলো।) শফিক অভিযোগ করে বলেন, “আমরা এলাকার জনপ্রতিনিধি হিসেবে মারামারি কিভাবে ছুটাবো, তার পক্ষেই ছিলাম। আমার ভাইদের সঙ্গে মারামারির ঘটনা, তারপরও আমি এবং আমার স্ত্রী নিরপেক্ষ ছিলাম।” তিনি আরও জানান, তার স্ত্রী রোজিনা জামাল হোসেনের পায়ে ধরে অস্ত্র ফেলে দিতে বললেও তিনি তা শোনেননি। বরং পরে শ্বশুরবাড়ি থেকে লোকজন এনে মোট ১০ জন তার ভাইদের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় তাদের পক্ষ থেকেও মুরাদনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে তিনি জানান। তবে শফিকের কাছে তার পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত বা হামলার শিকার হওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ছবি, ভিডিও ও চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র চাওয়া হলেও তিনি তা প্রদান করেননি।
আহত জামাল হোসেন বলেন, “ইউপি সদস্য রোজিনা ও তার স্বামী শফিক মিথ্যা বলেছেন। আমাদের হাতে কোনো অস্ত্র ছিল না; আমরা নিরস্ত্র ছিলাম। বরং তারাই অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়, যা স্থানীয় এলাকাবাসী জানেন।” তিনি আরও বলেন, “শফিক স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা এবং তার স্ত্রী ইউপি সদস্য হওয়ায় তারা প্রায়ই প্রভাব খাটান। ঘটনার দিন শফিক তার ভাইদের উসকে দিয়ে বলেন, ‘আমি বিএনপির নেতা, আমার দল ক্ষমতায়, আমি দলের সভাপতি মানে সর্বোচ্চ নেতা।’ এরপর ‘ধর ধর’ বলে হামলার সূচনা হয়।” হামলায় আহত কামাল হোসেন বলেন, “ঘটনার দিন তারা অতর্কিতভাবে আমার ভাই জামালের ওপর হামলা চালায়। তার চিৎকার শুনে আমি ঘটনাস্থলে দৌড়ে যাই। গিয়ে দেখি, আমার ভাই রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।
তাকে ধরে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় সামনে থেকে সোহেল গ্যাসের পাইপ দিয়ে আমার মাথার বাম পাশে আঘাত করে। পরে জুয়েল আমাকে দ্বিতীয়বার আঘাত করতে গেলে আমি সরে যাই; তখন সেই আঘাত গিয়ে তারই ভাই সোহেলের ওপর পড়ে।” এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “উভয় পক্ষের অভিযোগ পেয়েছি।
ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।” তবে উভয় পক্ষের অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জামাল ও কামাল, দুই ভাইকে রক্তাক্ত করার পর তারা ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
পরে দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সেখানে দুই দিন ভর্তি থেকে চিকিৎসা নেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, আহতদের হাসপাতালে ভর্তি থাকার সুযোগে প্রতিপক্ষ নিজেদের গ্রেপ্তার এড়াতে ও ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেছে, যা তারা আইনের অপব্যবহার হিসেবে দেখছেন। তারা এ ঘটনায় পুলিশের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বাংলা নিউজ মিডিয়া কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে WhatsApp & IMO 01886833283
সাথী সোহেল জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন (আর্তমানবতার সেবায়) নগদ/বিকাশঃ ০১৩০২৪৪৭৩৭৩