দেশের বিদ্যুৎ খাতে নতুন মাইলফলক: রূপপুরে শুরু হলো পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং।
মোঃ সুজন আহাম্মেদ বিভাগীয় চিফ রাজশাহীঃ
দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে দেশের বিদ্যুৎ খাতে নতুন এক মাইলফলকে পৌঁছেছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত এই প্রকল্পে আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক জ্বালানি (ফুয়েল) লোডিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রবেশ করলো পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে।
সোমবার (২৮ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টায় প্রকল্প এলাকায় আয়োজিত সংক্ষিপ্ত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এর ফলে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় যুক্ত হলো।
প্রকল্পে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে ইউরেনিয়াম-২৩৫ (ইউ-২৩৫), যা রাশিয়া থেকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় সরবরাহ করা হয়েছে। পারমাণবিক জ্বালানি ছোট পেলেট আকারে জিরকোনিয়াম অ্যালয়ের টিউবের মধ্যে ভরে ফুয়েল রড তৈরি করা হয়। এসব রড একত্রে ফুয়েল অ্যাসেম্বলি গঠন করে। প্রথম ইউনিটের রিঅ্যাক্টরে মোট ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি স্থাপন করা হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। স্বাগত বক্তব্য দেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা Rosatom-এর মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ। অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন International Atomic Energy Agency-এর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি।
মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্প কমিশনিংয়ের কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। জ্বালানি লোডিংয়ের মধ্য দিয়ে দেশের জন্য একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের সূচনা হলো। তিনি আরও বলেন, শিল্পায়ন ও টেকসই উন্নয়নের জন্য নিরবচ্ছিন্ন, নির্ভরযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, আর এই ক্ষেত্রে পারমাণবিক শক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন করতে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন সময় লাগবে। এরপর ধাপে ধাপে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আগামী আগস্টের প্রথম সপ্তাহে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে। প্রাথমিকভাবে প্রথম ইউনিট থেকে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে গত ১৬ এপ্রিল বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ প্রথম ইউনিটের জন্য কমিশনিং লাইসেন্স প্রদান করে, যা জ্বালানি লোডিংয়ের পথ সুগম করে।
কেন্দ্র পরিচালনাকারী Nuclear Power Plant Company Bangladesh Limited-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসান জানান, ইতোমধ্যে ৫২ জন বিশেষজ্ঞ অপারেটর লাইসেন্স অর্জন করেছেন। তাদের সঙ্গে রাশিয়ার লাইসেন্সধারী অপারেটরদের সমন্বয়ে কেন্দ্র পরিচালিত হবে।প্রকল্প কর্মকর্তারা আরও জানান, উৎপাদন ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পাবে এবং পূর্ণ সক্ষমতা (১২০০ মেগাওয়াট) অর্জনে সময় লাগতে পারে ৮ থেকে ১০ মাস। একই সঙ্গে চলতি বছরের শেষ দিকে দ্বিতীয় ইউনিটেও জ্বালানি লোডিং শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, পদ্মা নদীর তীরে পাবনার ঈশ্বরদীতে প্রায় ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পে রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা রয়েছে। দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টর সমন্বয়ে গঠিত কেন্দ্রটির দুই ইউনিট পূর্ণ উৎপাদনে গেলে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে, যা দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
বাংলা নিউজ মিডিয়া কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে WhatsApp & IMO 01886833283
সাথী সোহেল জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন (আর্তমানবতার সেবায়) নগদ/বিকাশঃ ০১৩০২৪৪৭৩৭৩