নিজস্ব প্রতিবেদক::
আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অপরাধ দমনের দায়িত্ব পুলিশের। কিন্তু পুলিশের কোনো কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়—আইনের রক্ষকই যদি অনিয়মের অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ হন, তাহলে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার ও নিরপেক্ষ সেবার নিশ্চয়তা কোথায় পাবেন?
দেশের বিভিন্ন এলাকায় থানা-পুলিশের কার্যক্রম ঘিরে ঘুষ দাবি, মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে অর্থ চাওয়া, তদন্তে পক্ষপাত, হয়রানি এবং প্রভাবশালীদের প্রতি বিশেষ সুবিধা দেওয়ার মতো অভিযোগ মাঝেমধ্যে সামনে আসে। অভিযোগগুলোর সবই যে সত্য, তা নয়; তবে কোনো অভিযোগ উঠলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত ও যথাযথ জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পুলিশের কাছে সহায়তা চাইতে গিয়ে কখনো কখনো তাদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়, দীর্ঘসূত্রতা কিংবা অপ্রয়োজনীয় হয়রানির মুখে পড়তে হয়। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় মানুষ পুলিশের দ্বারস্থ হয়ে প্রত্যাশিত সহযোগিতা না পেলে তাদের মধ্যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পুলিশ বাহিনীর একটি ছোট অংশের অনিয়মের দায় পুরো বাহিনীর ওপর চাপানো ঠিক নয়। একই সঙ্গে কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে ঘুষ বা দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠলে সেটিকে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা একটি কার্যকর আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি। তাই ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ তদন্ত, অভিযোগ গ্রহণের কার্যকর ব্যবস্থা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিশ্চিত করা জরুরি। এতে একদিকে যেমন ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পাবেন, অন্যদিকে সৎ ও দায়িত্বশীল পুলিশ সদস্যদের ভাবমূর্তিও সুরক্ষিত থাকবে।
আইনের রক্ষক হিসেবে পুলিশের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা একটাই—আইন সবার জন্য সমান হবে, সেবা হবে নিরপেক্ষ এবং দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের ঘুষ বা অনৈতিক প্রভাবের স্থান থাকবে না।
দৈনিক প্রতিবাদ প্রকাশক ও সম্পাদক
সোহেল সরকার কর্তৃক লন্ডন যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে WhatsApp +44 7574 879654
সাথী সোহেল জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন (আর্তমানবতার সেবায়) নগদ/বিকাশঃ ০১৩০২৪৪৭৩৭৩