নিজস্ব প্রতিবেদক: মোঃ জালাল উদ্দিন:
অবসরজনিত বিদায় উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে শ্রীমঙ্গল-এ। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) নন্দনকানন একাডেমি, শ্রীমঙ্গল-এর হলরুমে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এ আয়োজন সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে প্রগ্রেসিভ টিচার্স ফান্ড, শ্রীমঙ্গল।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, সিনিয়র শিক্ষক ও কর্মচারীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। তাঁদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয় এবং শিক্ষক জীবনের সঞ্চিত তহবিলের অর্থ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। আয়োজকরা জানান, দীর্ঘ কর্মজীবনের স্বীকৃতি ও ন্যায্য আর্থিক প্রাপ্য মর্যাদার সঙ্গে তুলে দেওয়াই ছিল এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে কার্যক্রম সূচনা হয়। পরে গীতা পাঠ অনুষ্ঠিত হয়। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান এগিয়ে চলে।
এ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ভূনবীর দশরথ হাই স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ ও প্রগ্রেসিভ টিচার্স ফান্ডের সভাপতি ঝলক কান্তি চক্রবর্তী। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, “একজন শিক্ষক কখনো অবসর নেন না—তিনি আজীবনই শিক্ষক। বিদ্যালয়ের পাঠদান শেষ হতে পারে, কিন্তু সমাজ ও জাতি গঠনে তাঁদের ভূমিকা কখনো শেষ হয় না। আজ যাঁদের আমরা সম্মান জানাচ্ছি, তাঁদের নিষ্ঠা, সততা ও ত্যাগের ফলেই হাজারো শিক্ষার্থী আলোর পথ খুঁজে পেয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষকতা শুধু একটি পেশা নয়, এটি একটি নৈতিক অঙ্গীকার। আমাদের দায়িত্ব হলো এই অভিজ্ঞ শিক্ষকদের আদর্শ ও মূল্যবোধ নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া। তাঁদের কর্মময় জীবন আমাদের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। অবসর জীবনে তাঁরা যেন মর্যাদা ও স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করতে পারেন—সেই প্রত্যাশাই আমরা করি।”
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মির্জাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও প্রগ্রেসিভ টিচার্স ফান্ডের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফারুক আহমেদ। হিসাব বিবরণী পাঠ করেন ভৈরবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক ও প্রগ্রেসিভ টিচার্স ফান্ডের কোষাধ্যক্ষ মোঃ আব্দুল মুতালিব।
অনুষ্ঠানে মরণোত্তর কয়েকজন শিক্ষককেও সম্মাননা প্রদান করা হয়। বক্তারা তাঁদের স্মরণ করে গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং বলেন, “যাঁরা আজ আমাদের মাঝে নেই, তাঁদের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। শিক্ষা অঙ্গনে তাঁদের সেবা ইতিহাস হয়ে থাকবে।” তাঁরা অবসরপ্রাপ্ত সকল শিক্ষক-কর্মচারীর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও শান্তিময় জীবনের কামনা করেন।
সম্মাননা প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা হলেন—আছিদ উল্লা উচ্চ বিদ্যালয়ের পান্না লাল বর্ধন, মির্জাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের তপন কান্তি রক্ষিত, ধোবারহাট বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের কৃপেশ চন্দ্র দেব এবং ভৈরবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের সুধাংশু শেখর পাল।
সিনিয়র শিক্ষকদের মধ্যে সম্মাননা পান—আছিদ উল্লা উচ্চ বিদ্যালয়ের স্বপন কুমার রায়; ভৈরবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের রনজিত কুমার পাল, ফনি ভূষণ রায় চৌধুরী ও বিকাশ রঞ্জন রায়; হুগলীয়া হাজী মনছব উল্লা উচ্চ বিদ্যালয়ের পংকজ কান্তি ভট্টাচার্য্য; এবং বিটিআরআই উচ্চ বিদ্যালয়ের শরদিন্দু দাশ।
মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান করা হয়—বিষামনি উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আব্দুল বাছিত, মনাই উল্লাহ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক বিভাস রঞ্জন দাশ এবং হুগলীয়া হাজী মনছব উল্লা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মোঃ বেলাল উদ্দিনকে।
এ ছাড়া আছিদ উল্লা উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী নিরঞ্জন দেবকেও সম্মাননা প্রদান করা হয়।
দিনব্যাপী আয়োজনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও সুধীজনের উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলে। বক্তারা বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষকদের মর্যাদা ও প্রেরণা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলা নিউজ মিডিয়া কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে WhatsApp & IMO 01886833283
সাথী সোহেল জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন (আর্তমানবতার সেবায়) নগদ/বিকাশঃ ০১৩০২৪৪৭৩৭৩