(তাড়াশ) প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জ ও চলনবিল-অধ্যুষিত তাড়াশে সরস্বতী পূজা উপলক্ষে দিনব্যাপী দইয়ের মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) তাড়াশের ঈদগাহ মাঠে এই দইয়ের মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
মেলা উপলক্ষে সকাল থেকে বিভিন্ন রকমের বাহারি দই আসতে থাকে এখানে। তাড়াশের ঈদগাহ মাঠজুড়ে বসে দইয়ের পসরা।
বিভিন্ন এলাকায় থেকে আসা মিষ্টান্ন ভান্ডারগুলিতে রয়েছে, ক্ষীরসা দই, রাজাপুরের দই, শেরপুরের দই, বগুড়ার দই, টক দই, শ্রীপুরি দইসহ হরেক রকমের দই মেলায় স্থান পায়। এর সঙ্গে খই, চিড়া, মুড়ি, মুড়কি, বাতাসা, কদমা, মিষ্টিসহ বিভিন্ন মিষ্টান্নও বেচাকেনা হয়। এই দইয়ের মেলা উপলক্ষে মুসলিম-হিন্দু দুই সম্প্রদায়ের পরিবারেই মেয়ে-জামাইসহ অন্যান্য আত্মীয়স্বজনদের দাওয়াত করা হয় বাসায়। বিভিন্ন প্রকার দই দিয়ে চলে তাদের আপ্যায়ন।
সনাতন সংস্থার সভাপতি তপন কুমার গোস্বামী বলেন, তাড়াশের তৎকালীন জমিদার বনোয়ারী লাল রায়বাহাদুর প্রথম দইয়ের মেলার আয়োজন করেন। জনশ্রুতি আছে, জমিদার রায়বাহাদুর দই ও মিষ্টান্ন পছন্দ করতেন। এছাড়া জমিদারবাড়িতে আসা অতিথিদের আপ্যায়নে এ অঞ্চলে ঘোষদের তৈরি দই পরিবেশন করা হতো। সে থেকেই জমিদারবাড়ির সামনে রশিক লাল রায় মন্দিরের পাশের মাঠে সরস্বতী পূজা উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী দইমেলার আয়োজন শুরু হয়।
প্রতিবছর মাঘ মাসে শ্রীপঞ্চমী তিথিতে দইমেলায় বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, নাটোর থেকে ঘোষেরা দই এনে পসরা সাজান। তবে এখন তিনদিন নয়, একদিন বসে দইয়ের এই মেলা।
বিভিন্ন এলাকায় থেকে আসা মিষ্টান্ন ভান্ডারের ঘোষেরা জানান প্রতি বছরের ন্যায় এবারও আমরা ঐতিহ্যবাহী তাড়াশের মেলায় এসেছি। এবং চাহিদা অনুযায়ী কেতাদের আমরা দই দিতে পেরেছি অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার আমাদের দই বেশি বিক্রি হয়েছে।
মেলায় দই কিনতে আসা ক্রেতারা জানান, তাড়াশে স্বরস্বতী পূজা উপলক্ষে প্রায় ২০০ বছরে ধরে ঐতিহ্যবাহী এই দইয়ের মেলা বসেছে। এই মেলা উপলক্ষে আমরা বিভিন্ন রকমের দই পাই অনেক আগ্রহর সাথে আমরা অনেক দই কিনে থাকি।
বাংলা নিউজ মিডিয়া কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে WhatsApp & IMO 01886833283
সাথী সোহেল জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন (আর্তমানবতার সেবায়) নগদ/বিকাশঃ ০১৩০২৪৪৭৩৭৩