সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ কুড়িগ্রাম জেলার শস্য ভান্ডার খ্যাত ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় এবার সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। এই উপজেলায় চলতি মৌসুমে সরিষার বাম্পার ফলন হওয়ার আশাবাদে কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আনন্দ ও স্বস্তি।
অনুকূল আবহাওয়া, উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার এবং কৃষি অফিসের নিয়মিত পরামর্শে এবছর সরিষার ফলন প্রত্যাশার চেয়েও বেশি হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কুড়িগ্রাম জেলার শস্য ভান্ডার খ্যাত ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় এবার সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। দুটি ফসলের মাঝে কৃষকরা সরিষা চাষের ফলনকে বোনাস হিসেবে দেখছেন। এ সময় কৃষকরা আমন ধান কাটার পর জমি পতিত ফেলে রাখতো। সময়ের সাথে সাথে তা পুরোটাই পাল্টে গেছে। আমন ধান কাটার পর জমিতে সরিষা লাগাতে হয়। যা মাত্র ৬০ থেকে ৭০ দিনের মধ্যে ফসল কৃষক ঘরে তুলতে পারেন। দিগন্ত জোড়া ফসলের মাঠে সরিষা ফুলের সমারোহ শেষে ফলনের ভারে সরিষা গাছ এখন নুয়ে পরেছে।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে হলুদ রঙের সরিষা গাছ বাতাসে দোল খাচ্ছে। মৌমাছি সরিষা ক্ষেতে মধু সংগ্রহের জন্য ভোঁ ভোঁ করছে। সরিষা ক্ষেতের তদারকিতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। কৃষকদের দাবি, বিগত বছরের তুলনায় এবছর সরিষার চাষ অনেক বেরেছে। গত বছরের তুলনায় প্রতি বিঘায় ফলন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে বলে চাষীদের ধারনা।
উপজেলার জয়মনিরহাট ইউনিয়নের কৃষক মোফাজ্জল হোসেন বলেন “এবার আবহাওয়া ভালো ছিলনা,, তার পর রোগবালাইও কম হয়েছে। রোগ আক্রমণের আগেই আমরা আগাম ছত্রাক নাশক স্প্রে করেছি। আজ পর্যন্ত তেমন কোন রোগ চোখে পরে নাই। গত বছর সরিষা বপন করে ছিলাম। প্রতি বিঘায় প্রায় ৪-৫ মণ সরিষা পেয়েছিলাম। আগে কখনো পাইনি।” এবারো ফলন বেশি ছারা কম হবে না।
ভুরুঙ্গামারী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৩৪৫০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে।
কৃষকদের মাঝে প্রনোদনার অংশ হিসেবে উন্নত জাতের সরিষা বীজ বারি- ৯,১৪, ১৭, ১৮, ২০, ও বিনা ০৯, ১১, টরি ৭ এবং প্রতি বিঘা (৩৩শতক) জমির জন্য ১ কেজি সরিষা বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ( ডাই অ্যামোনিয়াম সালফেট ), ১০ কেজি এমওপি ( মিউরেট অফ পটাশ) সার সহ আধুনিক চাষপদ্ধতির বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ জনাব মোঃ আব্দুল জব্বার মহোদয় জানান, মাঠ পর্যায়ে আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান করতেছেন।
সময়মতো সার, সেচ ও ছত্রাক নাশক ব্যবস্থাপনার ফলে ফলন ভালো হবে বলে আশা করা হচ্ছে ।
“সরিষা একটি লাভজনক ও স্বল্পমেয়াদি ফসল। আমাদের সু পরামর্শ ও উৎসাহের ফলে কৃষকদের মাঝে সরিষা চাষের আগ্রহ বাড়ছে এবং আমরা নিয়মিত মাঠপর্যায়ে পরামর্শ দিচ্ছি। যে জমিতে সরিষা বপন করা হয় সেই জমিতে সবুজ সার তৈরি হয় এবং সরিষার শিকরে নাইট্রোজেন থাকায় পরবর্তী চাষে ইউরিয়া সার কম লাগে।এতে করে পরবর্তী ফসলে কৃষকের উৎপাদন খরচ কম লাগে।
তিনি আরও বলেন এবছর সরিষার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছি।”
বাজারে সরিষার দাম তুলনামূলক ভালো থাকায় উৎপাদন খরচ উঠে যাওয়ার পাশাপাশি লাভের মুখ দেখছেন কৃষকেরা। এতে করে কৃষকদের আর্থিক অবস্থার উন্নতির পাশাপাশি আগামী মৌসুমে সরিষা আবাদ আরও বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলা নিউজ মিডিয়া কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে WhatsApp & IMO 01886833283
সাথী সোহেল জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন (আর্তমানবতার সেবায়) নগদ/বিকাশঃ ০১৩০২৪৪৭৩৭৩