
রংপুর সদর সাবরেজিস্টার অফিসে রেকর্ড কিপার সেলিনা খাতুনের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেন সহ প্রয়োজনীয় নথি উঠাতে সরকারি অর্থের বাহিরে জমির দলিল(কাগজ) বুঝে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
এমনি একটি ঘুষ লেনদেনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।
তথ্য মতে,সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একজন রেকর্ড কিপার নথি সংরক্ষণ,তালিকাভুক্তি ও সূচিরকরণ, নথি সরবরাহ ও পুনরুদ্ধার, রেকর্ড-রুম ব্যবস্থনা ও ডিজিটালাইজেশন অর্থাৎ রেকর্ড সংরক্ষণে সহায়তা ও ডেটা এন্ট্রি এবং নিদিষ্ট পরিমাণ সরকারি ফি বাবদ গ্রাহক কে সেবা প্রদান করে থাকেন। অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, রংপুর সদর সাব রেজিস্ট্রার অফিসের রেকর্ড কিপার সেলিনা খাতুন নিয়মবহির্ভূত ভাবে কেউ কোন নতুন কিংবা পুরাতন নকল দলিল খুঁজতে এলে প্রাথমিক ভাবে তার কাছে নগদ ৩শ থেকে হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ বা উৎকোচ গ্রহন করে।তারপর শুরু হয় তার কারসাজি।
দলিল লুকিয়ে রেখে চলে ভুক্তভোগীদের সাথে দরকষাকষি।দরকষাকষি তে বনিননা হলে ৩ থেকে ৫০ হাজারে মিলে নকল দলিল না হলে বিভিন্ন ভাবে হয়রানির শিকার হতে হয় ভুক্তভোগীদের। এমনই এক ঘটনা ঘটেছে পীরগঞ্জ খালাশপীড় থেকে আসা চঞ্চল চৌধুরী'র সাথে।তিনি বলেন,আমি দর্শনায় একটি জমি বিক্রির জন্য প্রাক্তন জমির মালিকের ১৯৭২ সালের দলিল টি খুজতে সেলিনা খাতুন কে প্রথমে ৫০০ টাকা দেই।তিনি আস্বস্ত করে বলেন এটা অনেক পুরনো দলিল খুজে পেলে আমাকে সন্তুষ্ট করতে হবে এবং ঠিক দু'দিন পরে গেলে সেলিনা খাতুন বলেন, পুরনো দলিল অনেক খুঁজেছি, খুঁজতে আরও ৭ দিন সময় লাগবে এবং টাকাও লাগতে পারে।
পরে দলিল খুঁজে ২০ হাজার টাকা দাবি করে বসেন।আমি বাধ্য হয়ে প্রয়োজন বিধায় তাকে সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করি। আরেক ভুক্তভোগী ১৭ নং ওয়ার্ড বাসিন্দা পারভেজ বলেন,আমি গণমাধ্যমকর্মী পরিচয় দেওয়ার পরেও আমার একটা জমির দলিল খুঁজতে সেলিনা খাতুন আমার কাছে প্রাথমিক ৫'শ টাকা নেন এবং নকল দলিল বাবদ সরকারি ৯২০ টাকার বাহিরে অতিরিক্ত আরও ৫০০ টাকা ঘুষ নেন। রেজিস্ট্রার অফিসের রেকর্ড কিপারের ঘনিষ্ঠ এক সহযোগী বলেন,সেলিনা ম্যাডাম আসার পর তিনি দলিল লেখকের লাইসেন্স ব্যতীত নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে সব কাজ টাকার বিনিময়ে করে দিচ্ছেন।
এতে আমরা কর্মচারীগণ কোন ইনকাম করতে পারছি না। দলিল লেখক সমিতির সাবেক সভাপতি বলেন,রংপুর সদর সাব রেজিস্ট্রার অফিসের রেকর্ড কিপার সেলিনা খাতুন আসার পর তিনি বেপরোয়া ভাবে ঘুষ বানিজ্য করছেন দলিল খুঁজতে আসা ভুক্তভোগীদের সাথে। ক্ষমতা অপব্যবহার করে তিনি তার দায়িত্বের বাহিরে গিয়ে দলিল লেখকদের কাজে ভাগ বসিয়ে অবৈধভাবে প্রতিদিন ৫-১০ হাজার টাকা ইনকাম করছেন ।
এসব বিষয়ে রংপুর জেলা সাব-রেজিস্ট্রার শামীমা পারভীন বলেন,আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হলাম। যদি এরকম ঘুষ লেনদেনসহ অনিয়মিত কিংবা অভিযোগ তার বিরুদ্ধে প্রমাণিত হয়। তাহলে তাকে শোকজ করা হবে বলে তিনি জানান।
বাংলা নিউজ মিডিয়া কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে WhatsApp & IMO 0044 7574 879654
সাথী সোহেল জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন (আর্তমানবতার সেবায়) নগদ/বিকাশঃ ০১৩০২৪৪৭৩৭৩