!

মিজানুর রহমান, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি:
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে আগাম জাতের শিম চাষে বাম্পার ফলনের আশাবাদী কৃষক আব্দুল কাদির।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) উদ্ভাবিত বারি শিম-৭ জাতের শিমটি উচ্চ ফলনশীল ও গ্রীষ্মকালে চাষের জন্য উপযুক্ত। তবে এটি সারা বছর চাষ করা যায়।
এ জাতের শিম চাষ করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন ঝিনাইগাতী উপজেলার সন্ধ্যাকুড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল কাদির।
আবহাওয়া ও জমি চাষের উপযোগী হওয়ায় শিমের বাম্পার ফলন হয়েছে। এছাড়া আগাম শিমের বাজারে ব্যাপক চাহিদা ও দাম চড়া থাকায় ভীষণ খুশি তিনি।
জানা যায়, দীর্ঘদিন গাজীপুরের পোশাক কারখানায় কাজ করতেন এ কৃষক। পোশাক কারখানায় উপার্জিত অর্থে সংসার না চলায় বাড়িতে চলে আসেন তিনি। এর পর থেকেই বাড়ির পাশের জমিতে শাক-সবজি চাষাবাদ শুরু করেন। ২০২২ সালের জুলাই মাসের শুরুতে ২০ শতাংশ জমিতে শীতকালীন আগাম জাতের শিম চাষ করে সফল হয়েছেন তিনি।
কৃষক আব্দুল কাদির বলেন, ২০২২ সালে ইউটিউবে দেখে কেরালা-১ জাতের শিমের বীজ সংগ্রহ করে চাষ করে লাভবান হয়েছিলাম।
কৃষক আব্দুল কাদির আরও বলেন এ বছর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সরেজমিন গবেষণা বিভাগ শেরপুর থেকে উচ্চ ফলনশীল ও গ্রীষ্মকালে চাষের জন্য উপযুক্ত বারি শিম-৭ জাতের শিমের ২৫০ গ্রাম বীজ সংগ্রহ করি। প্রথম বার হওযায় মাত্র ১০ শতাংশ জমিতে চলতি বছরের মে মাসে নতুন উদ্ভাবিত এ জাতের শিমের বীজ রোপণ করি।
শিম চাষে শ্রমিক খরচ, সুতা, কীটনাশক, পানি, সারসহ ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা তাকে খরচ করতে হয়েছে। ভালো ফলনের জন্য রাত দিন গাছের যত্ন নিয়েছি। আবহাওয়া ভালো থাকায় বাগানজুড়ে শিম গাছে ফুল এসেছে। শিম থেকে ধনিয়া পাতার সুগন্ধি বের হয়। এসেছে কাঙ্খিত ফসল। গত কয়েকদিনে ৬০ থেকে ৭০ কেজি শিম উত্তোলন করেছি। এরইমধ্যে কয়েক দফায় ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকার শিম বিক্রি করেছি।
সফল কৃষি উদ্যোক্তা আব্দুল কাদের বলেন গত ৭ দিনে ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা কেজি ধরে ১ মণ ২০ কেজি শিম বিক্রি করেছেন। এমন অবস্থা চলমান থাকলে আর আবহাওয়া ভালো থাকলে বাগান থেকে আরো লাভ হবে বলে আশা করি। আমাকে দেখে এলাকায় এখন অনেকেই শিম চাষ করতে আগ্রহী হচ্ছেন। এটা দেখে খুবই ভালো লাগে।
আজ শনিবার সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার সন্ধ্যাকুড়া এলাকায় বিভিন্ন সবজিতে ভরে গেছে ফসলের মাঠ। আব্দুল কাদিরের শিম বাগানের জমির আনাচে-কানাচে শিমের সাদা ফুলে ভরে গেছে। থোকায় থোকায় পরিপুষ্ট শিমে ভরে গেছে গাছ। কৃষক আব্দুল কাদির জমিতে চাষ করা শিম বাগান থেকে শিম তুলছেন। সঙ্গে আরেক শ্রমিক গাছের পরিচর্যা করছেন।
সন্ধ্যাকুড়া গ্রামের কৃষক দেলোয়ার বলেন, কাদিরের চাষ করা শিমের বাগানে প্রচুর ফুল ফুটেছে। অল্পসময়ের মধ্যে এ জাতের শিম গাছে ফলও এসেছে অনেক। আমিও এ জাতের শিম চাষের পরিকল্পনা করতেছি।
কৃষক আব্দুল কাদির বলেন ঝিনাইগাতী অতিরিক্ত কৃষি অফিসার জাহিদ হাসান নানা বিষয়ে পরামর্শ ও খুজ খবর রাখেন।
তবে সাবেক উপজেলা কৃষি অফিসার হুমায়ুন দিলদার থাকা কালিন সব সময় আমাদের খুজ খবর রাখতেন নানা বিষয়ে পরামর্শ, সহযোগিতা করতেন ও সরজমিনে নিজে এসে পর্যবেক্ষণ করতেন। তবে এখন তিনি না থাকায় আমাদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
আব্দুল কাদির আক্ষেপ নিয়ে আরও বলেন ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি অফিসার ফরহাদ হোসেন আমাদের এ বিষয়ে কোনো সাহায্য সহযোগিতা ও পর্যবেক্ষণ করেন না।আমাদের যদি সঠিক গাইডলাইন দিতেন তাহলে আমরা আরও ভালো অবস্থানে যেতে পারতাম।
দৈনিক প্রতিবাদ প্রকাশক ও সম্পাদক
সোহেল সরকার কর্তৃক লন্ডন যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে WhatsApp +44 7574 879654
সাথী সোহেল জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন (আর্তমানবতার সেবায়) নগদ/বিকাশঃ ০১৩০২৪৪৭৩৭৩