
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় যুগ যুগ ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ হয়ে আছে বৈষ্ণব ধর্মের মহাপুরুষ নরোত্তম দাস ঠাকুরের তিরোভাব তিথি মহোৎসব।
গোদাগাড়ীতে রতন দাস এবং গোবিন্দ পালের ষড়যন্ত্রে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী গৌরাঙ্গবাড়ী মন্দির দেখার কেউ নেই। রতন দাস এবং গোবিন্দ পালের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন হিন্দু সম্প্রদায়। এই চোরদের কমিটি থেকে পদত্যাগ চাই স্থানীয়রা। ১৭ বছর ধরে শ্রী পাট খেতুর ধাম টা তারা লুটপাট করে খায় বলে যানা যায়। খেতুর ধাম ট্রাস্ট বোর্ডে ৩০০ বিঘা জমি আর পুকুর আছে, গাভী আছে। শ্রী শ্রী নরত্তম দাস ঠাকুর ময়শায়ের প্রাসাদ বিক্রি হয় ১৫০ টাকা করে। এই টাকা বেশির ভাগই যায় ম্যানেজার গোবিন্দ পালের পকেটে।
শ্রীপাঠ খেতুরি ধামে অনিময়ে ভরপুর মন্দিরের নামে চলছে ধর্ম ব্যবসা বলে জানান হিন্দু সম্প্রদায়।
খেতুর ধাম ট্রাস্ট বোর্ডের বিতর্কিত সদস্য রতন দাস তিনি সবাইকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। রতন দাস নিজের জমিতে রাস্তা করার জন্যে নিজের সার্থের জন্যে রাতের আধারে খেতুর ধাম ট্রাস্ট বোর্ডের মাটি দিয়ে রাস্তা করছে বলেও যানা যায়। রতন দাস আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সময় ১৭ বছর ফারুক চৌধুরীকে নিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। স্থানীয় সুত্রে জানা যায় রতন দাস খেতুর ধাম ট্রাস্ট বোর্ডের সভাপতি হওয়ার জন্যে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু এখনও রতন দাস এবং ম্যানেজার গোবিন্দ পালের বিরুদ্ধে পাহাড় সমান অভিযোগ এলাকাবাসী ও ভক্তবৃন্দের।
খেতুর ধাম ট্রাস্ট বোর্ডের কর্মচারী এলাকাবাসীরা জানান ম্যানেজার গোবিন্দ পাল এবং রতন দাস এলাকা বাশি ও বাহীর থেকে আশা ভুক্তবৃন্দের সাথে খারাপ আচরণ করে প্রাসাদ চাইতে গেলে জাত তুলে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করতে থাকে। এলাকা বাসি কমিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন মন্দিরের ম্যানেজার গোবিন্দ পাল একজন হুন্ডি ব্যবসায়ী এছাড়াও মন্দিরে বরাদ্দের চাউল এর কিছু অংশ বিক্রি করা হয়, রান্না করা অন্ন ভোগ ১৫০টাকা প্লেট হিসেবে বহিরাগত ভক্ত দের কাছে বিক্রি করা হয় এবং বাহির থেকে আসা ভক্তবৃন্দ রাত্রি যাপন
করলে ঘরের ভাড়া বাবদ টাকাও নেন ম্যানেজার গোবিন্দ পাল । টাকা ছাড়া প্রসাদ পাননা গরিব দুর থেকে আসা ভক্তরা টাকা দিতে না পেরে প্রসাদ না
নিয়ে ফিরে আসার চিত্র হরহামেশাই ঘটে। এইমর্মে এলাকা বাসি সুনন্দন রতন দাস এবং গোবিন্দ পালের বিরুদ্ধে অভিযোগও করেন মন্দির পরিচালনা কর্তৃপক্ষের কাছে পরবর্তীতে অভিযোগের পরে কোন সুরাহা না হলে এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী বর্তমান ট্রাস্ট কমিটির পদত্যাগের দাবি জানান।
হিন্দু সম্প্রদায়ের স্থানীয়রা আরও বলেন, বেশ কয়েক বছর আগে খামারি প্রকল্প থেকে আসা প্রনোদনার বিশ হাজার টাকা আত্মসাৎ এর চেষ্টা করেন ম্যানেজার গোবিন্দ পাল। বিষয়টি এলাকার সজল ঘোষ ও তার শশুর গোবিন্দ ঘোষ জানতে পারে জন সম্মুখে সজল ঘোষ ও গোবিন্দ ঘোষ বিষয়টি নিয়ে আসে এবং প্রতিবাদ গড়ে তোলেন সেই সময়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলে সেই সময়ের সভাপতি মদন মোহন দে পরবর্তীতে ম্যানেজার গোবিন্দ পাল কে জিজ্ঞেসাবাদ করলে এক পর্যায়ে ম্যানেজার গোবিন্দ পাল অস্বীকার করেন। কিন্তু সজল ঘোষ ধীরে ধীরে প্রমাণ খুঁজতে থাকেন । যখন প্রকৃত বিষয়টি জনসম্মুখে প্রমাণ সহ আসতে থাকে, ঠিক তখন গোবিন্দ পাল স্বীকার করেন যে তিনি তার নিজস্ব খামারের টাকা মনে করে নিজস্ব খাতে রাখেন। সভাপতি মদন মোহন দে এবং সজল ঘোষ এর চাপে ম্যানেজার গোবিন্দ পাল গৌরাঙ্গ দেব বিগ্রহ ট্রাস্ট তহবিলে টাকা জমা দিতে বাধ্য হয় । সভাপতি মদনমোহন দের মৃত্যুর পর সভাপতির দায়িত্ব নেন শ্রী বিদ্যুৎনারায়ণ সরকার তখন থেকেই আবারো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন ম্যানেজার গোবিন্দ পাল ভক্তবৃন্দের সাথে খারাপ আচরণ আবারো প্রসাদ বিক্রয় ও গোপনে হুন্ডির ব্যবসা চালাচ্ছেন গোবিন্দ পাল।
এ বিষয়ে ম্যানেজার গোবিন্দ পাল জানান- এসবআমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। আমি এসবের সাথে জড়িত নই আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে । এ দিকে এখনো ক্ষুব্ধ রয়েছেন এলাকাবাসী ও ভক্তবিন্দু রতন দাস এবং ম্যানেজার গোবিন্দ পাল সহ টাস্ট বোর্ডের সকল সদস্যদের পদত্যাগের দাবি জানান হিন্দু সম্প্রদায়। এলাকাবাসী ও টাস্টের ভক্তরা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন এবং রতন দাস ও ম্যানেজার গোবিন্দ পালকে বহিষ্কার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি দাবি জানিয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে দেখে আরও যারা টাস্টের দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাথে জড়িত তাদেরকেও আইনের আওতায় এনে শাস্তি দাবি করেছেন।
খেতুরীধামে প্রতিবছর সারা দেশ থেকে প্রায় পাঁচ লাখ নরোত্তম ভক্ত এ উৎসবে যোগ দেন। অনেকেই অবস্থান করেন আশপাশের মুসলমানদের বাড়ির উঠানে। স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের সর্বাত্মক সহায়তা করেন।
প্রসঙ্গত, ১৫৩১ খ্রিস্টাব্দে ঠাকুর নরোত্তম দাস তৎকালীন গড়েরহাট পরগণার অন্তর্গত বর্তমান রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার পদ্মা তীরের গোপালপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব পার করে ঠাকুর নরোত্তম দাস বৃন্দাবন অভিমুখে যাত্রা করেন। সেখানে নিখিল বৈষ্ণবকুল লোকনাথ গোস্বামীর শিষ্যত্ব গ্রহণ করে দীক্ষা লাভ করেন।
পরে তিনি খেতুরে ফিরে আসেন। খেতুর মন্দিরে গড়ে তোলেন স্থাপনা। এরপর তিনিই প্রথমে এখানে এ উৎসবের আয়োজন করেন। ভক্তরা দূর-দূরান্ত থেকে তার কাছে এসে দীক্ষা গ্রহণ করতে শুরু করেন।
বাংলা নিউজ মিডিয়া কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে WhatsApp & IMO 01886833283
সাথী সোহেল জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন (আর্তমানবতার সেবায়) নগদ/বিকাশঃ ০১৩০২৪৪৭৩৭৩